জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ:

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস যেন কম্পিউটার অপারেটরের কথায় চলছে। তারেক নামের এক কম্পিউটার অপারেটর দীর্ঘ অর্ধযুগ ধরে বেসরকারিভাবে সেখানে কাজ করছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি তিনি কিছুটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে রিভিউ মামলা, নামজারি ও খাজনা আদায়ের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, গত ২০ মে ভুক্তভোগী জনৈক জসিম উদ্দিন চৌধুরী হ্নীলা ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর তারেকের বিরুদ্ধে রিভিউ মামলার নামে ৮২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসিল্যান্ড মো. রাকিব হাসান চৌধুরী ভূমি অফিসের গোলঘরে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর ও অভিযোগকারীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে তিনি বিষয়টির একটি সমাধান দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী জসিম চৌধুরী এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, মো. তারেক ২০১৯ সাল থেকে বেসরকারিভাবে হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন। জুলাই অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে বর্তমান তহশীলদারের যোগদানের পর থেকে তার আচরণে পরিবর্তন দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রিভিউ মামলা, নামজারি ও খাজনা আদায় করে দেওয়ার কথা বলে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তহশীলদারের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে কাঞ্জরপাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের কাছ থেকেও রিভিউ মামলার নামে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তারেকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও অনেকেই তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত মো. তারেক বলেন, “মামলার নামে টাকা নিয়েছি ঠিক, তবে জসিম চৌধুরীর বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।”

ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, “মামলার কাজ করে দেওয়ার কথা বলে হ্নীলা ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মো. তারেক আমার কাছ থেকে ৮২ হাজার টাকা নেন। চার মাস পার হলেও তিনি আমার কাজ সম্পন্ন করেননি। পরে বারবার আজ-কাল বলে সময়ক্ষেপণ করায় আমি এসিল্যান্ড স্যারের কাছে সরাসরি অভিযোগ করি। তিনি বিষয়টি নিয়ে বসেন এবং তারেককে ভূমি অফিসে না যেতে বলেন। আমার খতিয়ানটি তিনি নিজেই করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”

ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) আক্তারুল ইসলাম সেলিম জানান, “তারেক নামের কেউ আমাদের কম্পিউটার অপারেটর নন।” তবে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ওই কম্পিউটার অপারেটরকে আমি রাখিনি।”

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকিব হাসানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে ক্ষুদে বার্তাও পাঠানো হয়, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তহশীলদার ও কম্পিউটার অপারেটর মো. তারেকের কারণে ভূমি সংক্রান্ত সেবায় নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান তহশীলদারের যোগদানের পর থেকে নামজারি মামলাসহ বিভিন্ন ভূমি সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া অর্থের বিনিময়ে ফাইল নিষ্পত্তির অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।